রবিবার, ২৩-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
  • অর্থনীতি
  • »
  • বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তিতে বাধার আশঙ্কা: এফবিসিসিআই

বাজেটে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তিতে বাধার আশঙ্কা: এফবিসিসিআই

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ জুন, ২০১৮ ০৬:১৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করে এফবিসিসিআই।
শনিবার প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে এফবিসিসিআইয়ের মতামত তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। রাজধানীর মতিঝিলে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটি বাজেট নিয়ে আয়োজন করা হলেও এফবিসিসিআই সভাপতি বেশির ভাগ সময় ব্যাংকের উচ্চসুদ নিয়ে কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, যা নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাব করছি - যাতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় থাকে।
ঢাকা মহানগরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার আগে অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনের রাইড শেয়ারিং সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ না করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান যানজটে দ্রুত যাতায়াতের জন্য এ ধরনের সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনায় এ কথা বলেছে এফবিসিসিআই। আজ শনিবার এ উপলক্ষে রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
এতে লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন অ্যাপসভিত্তিক সেবার ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছেন। এ ছাড়া ৩ থেকে ৪ শতাংশ উৎসে আয়কর আরোপ করা হয়েছে।
সার্বিক বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের মূল্যায়ন হলো, এ বাজেটে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ইত্যাদি খাতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সুবিধাভোগীদের সংখ্যা এবং মাসিক ভাতার হার বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা নিঃসন্দেহে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া গতিশীল করবে বলে মনে করছে এফবিসিসিআই।
অবশ্য বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। সংগঠনটি এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে।
বাজেট ব্যবসাবান্ধব কি না, জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। তবে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিলে বাজেটে বিশেষ কোনো হেরফের হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, পরিচালক হাফেজ হারুন, শমী কায়সার প্রমুখ।
শীর্ষনিউজ/এমই