বৃহস্পতিবার, ২১-জুন ২০১৮, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

ব্যাংকে টাকার সংকট

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৫ মার্চ, ২০১৮ ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ কাগজের সৌজন্যে: ব্যাংকে টাকা নেই। টাকার জন্য হাহাজার চলছে। আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। নতুন কোনো ঋণ বিতরণ বন্ধ। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না। ফেরত নেয়া হচ্ছে অনুমোদন দেয়া ঋণও। মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। এ তারল্য সংকট চলছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। ধার-দেনা করে চলছে বেশিরভাগ ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক প্রায় অর্ধশত-কোটি টাকা ধার দিয়েছে তারল্য সংকটে পড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। অপরদিকে মূলধন সংকটে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও। ঘাটতি মেটাতে সরকারের কাছে ২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংক। ফলে নতুন করে ধার দিতেও এখন হিমশিম খাচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো। বাধ্য হয়ে আমানত সংগ্রহে ‘এসি কক্ষের বিলাসী চেয়ার’ ছেড়ে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছুটছেন টাকা ওয়ালাদের পেছনে। এক ব্যক্তির পেছনে ঘুরছেন একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও পরিচালকরা। কে কত সুদ দেবে- এ নিয়ে হচ্ছে দর কষাকষি, দেন দরবার। ফলে আমানত সংগ্রহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেধে দেয়া সুদের রেট দ্রুতই বেড়ে গেছে। সেই সাথে ঋণগ্রহীতাদেরকেও এখন বেশি সুদ গুণতে হচ্ছে। সুদের বাড়তি রেটেও ব্যবসায়ীদেরকে টাকা দিতে পারছে না ব্যাংক। কারণ তারল্য সংকটে বেকায়দায় পড়েছে ব্যাংকগুলো। বেশ কিছুদিন ধরে দেশে এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজধানীর ব্যাংকপাড়ায় তারল্য সংকটে নেমে এসেছে হতাশার ছাপ। ঠিকমতো ঘুমও হচ্ছে না অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকসহ মালিকদের। কীভাবে ব্যাংক টিকিয়ে রাখা যায়- এ নিয়ে রাত-দিন ভাবনায় ব্যস্ত তারা। চলছে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের নানা দফতরে দৌড়ঝাঁপ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে অনেকটা হঠাৎ করেই ঋণ দেয়ার মতো অর্থের টান পড়েছে। কিন্তু কেন, এরও গ্রহণযোগ্য কারণ খুঁজে পাওয়ার যাচ্ছে না। বেশ কিছু ব্যাংক নতুন করে ব্যবসায়ীদের ঋণ দিচ্ছে না। প্রায় সব ব্যাংকই বাড়িয়েছে সুদের হার। এমনকি কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দেয়া ঋণের টাকা ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাস দু-এক আগেও ব্যাংকগুলো বড় গ্রাহকদের ৮-৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিত। যা এখন ২-৩ শতাংশ বেশি দিতে হচ্ছে। একইভাবে বেড়ে গেছে ভোক্তা ও গৃহঋণের সুদের হারও।
হঠাৎ টাকার সংকট কেন?
ব্যাংকাররা হঠাৎ এই টাকার সংকটের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো-
ক) ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণের সীমা অতিক্রম করা।
খ) সুদের হার কম হওয়ায় ব্যাংকে আমানত কমে যাওয়া, অর্থাৎ সুদ কম পাওয়ায় আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়া।  
গ) ডলার বিক্রি করে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেয়া।
ঘ) প্রভাবশালীরা ভুয়া কাগজপত্রে ঋণ নিয়ে বিদেশে টাকা পাচার ও সেকেন্ড হোম তৈরি করা।
ঙ) ঋণ বিতরণের নামে অবৈধ পন্থায় ব্যাংক থেকে টাকা লুট ও মালিক পক্ষের নৈতিক স্খলন।
চ) আশঙ্কাজনকভাবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়া।
ছ) বেসরকারি একটি ব্যাংকের সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিও পরোক্ষভাবে এ সংকটে ঘি ঢেলেছে।
সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যাংকের লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট, রিজার্ভ চুরি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর মালিকানা জোর করে বেদখল এবং বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দেশের অনেকগুলো ব্যাংকের মালিকানা চলে যাওয়া। এ সব কারণে ব্যাংক খাত ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছেছে। ব্যাংকে টাকা রাখতে সাধারণ মানুষ এখন আর সাহস পাচ্ছেন না। টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সুদের হার কমে যাওয়ায় আমানতকারীরা অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এতেই বেকায়দায় পড়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। তারল্য সংকটের কারণে আমানতকারীদের টাকা এখন আর ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংক। এ খবর অন্যদের কাছে চলে যাওয়ায় সবাই ছুটছেন আমানত ফেরত পেতে। এতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।
আগ্রাসী ঋণ বিতরণ
২০১৭ সালে ব্যাংকগুলো আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করে। অন্যদিকে আমানত সংগ্রহের প্রবণতা কমে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে ১১ মাসে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) ১ লাখ ১১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। যদিও এ সময়ে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৭২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানতের চেয়ে দেড় গুণের বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে তারল্যে কিছুটা চাপ পড়েছে। এদিকে আমদানি দেনা চাহিদা মেটাতে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে ব্যাংকগুলো। তাতে ডলারের দাম বাড়ছে। সংকট মেটাতে গিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১২০ কোটি ডলার বিক্রি করে বাজার থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে তারল্য সংকট আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যায়ে এসে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি হওয়ায় ঋণসীমা কমিয়ে লাগাম টেনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সীমা মানতে ব্যাংকগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকাররা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার কারণে অনেক ব্যাংক নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। অনেকে নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে আসতে দেয়া ঋণও ফেরত আনছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে সবাই আমানত সংগ্রহে জোর দিয়েছে। বাজারে নতুন আমানত কম, তাই এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে বেশি সুদে স্থানান্তর হচ্ছে। এ কারণে আমানত ও ঋণ উভয়ের সুদহার বাড়ছে। আবার রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে, আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় হচ্ছে না।
সুদহার আবার দুই অঙ্কে
দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য গত এক বছর ছিল সুসময়। এ সময়ে বড় গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকের ঋণের সুদের হার কমে ৮ শতাংশের নিচেও নেমেছিল। একইভাবে কমেছিল ব্যক্তিগত, গৃহ, গাড়ি ও পেশাজীবীদের ঋণের সুদের হার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, দেশের ব্যাংকগুলোতে ২০১১-১৩ সাল পর্যন্ত ঋণের গড় সুদের হার ছিল ১২ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে। ২০১৭ সালে তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে যায়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে ঋণের সুদের গড় হার দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যাংকগুলো সুদের হার আগের চেয়ে বেশি চাচ্ছে। এক ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা বলেন, ‘এত দিন আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সাড়ে ৮ শতাংশের মধ্যে পেতাম। এখন সেটা ১০ শতাংশের ওপরে উঠেছে।’ চলতি মূলধনের সুদহার আরও কিছুটা বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একটি ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০টি ব্যাংক মিলে যদি বাজারে নামে, তাহলে আমানতের সুদের হার তো বাড়বেই। বাজার থেকে ব্যাংকগুলো এখন ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহের চেষ্টায় আছে। স্থায়ী আমানত ৯ শতাংশ সুদে নিলে কারও পক্ষে ১৪ শতাংশের কমে ঋণ দেয়া সম্ভব নয়।
ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক, উদ্বেগ  
ব্যাংকিং খাতে এখন আতঙ্ক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরই এ কথা বলছেন। আমানত তুলে নেয়ার ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যাংকাররা। আর বিনিয়োগকারীরা হয়ে পড়েছেন বিভ্রান্ত। কারণ, সঠিক তথ্য কেউই দিচ্ছে না। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ বোধ করছে না। মূলত রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স পাওয়া নতুন ব্যাংকগুলোর প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। পুরোনো বেসরকারি ব্যাংক থেকেও কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থনীতিতে। এ ঘটনায় ব্যাংকাররা যেমন উদ্বিগ্ন, একই উদ্বেগ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরেরও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি গভর্নর প্রকাশ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রাজধানীর একটি হোটেলে এদিন অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘একটি বেসরকারি ব্যাংক খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছে। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত সরিয়ে নিতে চাইছে। একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্ক আগে শেয়ারবাজারে ছিল, এখন ব্যাংকে চলে আসছে।’ ওই অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির আরও বলেন, ‘আমদানি যে হারে বাড়ছে, রফতানি ও প্রবাসী আয় সে হারে আসছে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে। ডলারের দাম বেড়ে গেছে। চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে এসেছে।’
আমানতকারীদের আতঙ্কের শুরু
আতঙ্কের শুরুটা হয়েছিল বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনা থেকে। এই ব্যাংকে রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। জলবায়ু তহবিলের ৫০৮ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ার কথা আলোচনা হয় জাতীয় সংসদেও। এরপরই বেসরকারি ব্যাংক থেকে তহবিল সরিয়ে ফেলতে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তিনটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে সরকারি ব্যাংকে জমা করেছে। হঠাৎ করে বড় অঙ্কের টাকা তুলে ফেলায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে ব্যাংক তিনটি। ব্যাংকাররা জানান, বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংক এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে নতুন ব্যাংকগুলো।
ঋণের টাকা মখা আলমগীর ও চিশতীর হিসাবে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তির অনিয়ম। ব্যাংকটি গ্রাহকদের যে ঋণ দিয়েছে তার উপর কমিশন নিয়েছেন তৎকালীন চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা জনবল নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাংকের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনটি ফারমার্স ব্যাংকে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এসব তথ্য পুরো অসত্য ও অবিশ্বাস্য। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে কী এভাবে টাকা নিতে পারি? এর সত্যতা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক তো আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারত। আবার যদি কেউ আমার নাম ব্যবহার করে থাকে, তার দায়ভার কি আমি নেব?’ মখা আলমগীরের দাবি, তার চার বছরে ব্যাংক ভালো চলেছে। এ সময়ে মুনাফাও হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল তনুজ করপোরেশন ঋণের জন্য ফারমার্স ব্যাংকে আবেদন করে। কিন্তু ঋণ আবেদনটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ওই দিনই তনুজ করপোরেশনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ৫০ লাখ টাকা। পরে কোম্পানিটি সেই টাকা তাদেরই অন্য এক হিসাবে স্থানান্তর করে। অর্থাৎ ঋণ অনুমোদনের আগেই গ্রাহককে ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মখা আলমগীর ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তনুজ করপোরেশনের ব্যাংক হিসাব থেকে গত বছরের ১৯ জুলাই ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ফারমার্স ব্যাংকে খোলা তাদেরই অন্য এক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এ ১ কোটি ২২ লাখ টাকার মধ্যে ওই দিন ৪২ লাখ টাকা নগদে তোলা হয়। আর ৮০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার ইস্যু করে তনুজ করপোরেশন। যদিও পরে পে-অর্ডারটি বাতিল করা হয়। পরে মখা আলমগীরের নামে ১৮ লাখ ও মাহবুবুল হক চিশতীর নামে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদে তুলে নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে মখা আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী অর্থ গ্রহণ করায় তাদের নৈতিক স্খলন ঘটেছে।
এদিকে জাহান ট্রেডার্স নামে অপর একটি ঋণ হিসাব থেকে গত বছরের ১৯ মার্চ ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা কোম্পানিটিরই আরেকটি হিসাবে পাঠানো হয়। ওই ঋণও দেয়া হয় মহীউদ্দীন খান আলমগীরের একক সুপারিশে। তনুজ করপোরেশন ও জাহান ট্রেডার্স উভয় কোম্পানিই নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেও পুরো টাকা তুলেছেন নগদে। এর ফলে ঋণের টাকা প্রকৃত খাতে ব্যবহার হয়নি। এভাবে একের পর এক লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে থাকে ব্যাংকটিতে। বলা যায়, ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পরই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আর এ কারণেই ব্যাংকটিতে এখন নগদ অর্থের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অন্য ব্যাংকগুলোতেও।
বেশি সংকটে ইসলামী ব্যাংকগুলো
এই মুহূর্তে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগলেও বেশি সমস্যায় পড়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। সোনালী ব্যাংকের পর সবচেয়ে বড় ব্যাংক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি এই ব্যাংকটির ঋণ আমানত অনুপাত ছিল সাড়ে ৯০ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যাংকটির আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ, ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ। একই অবস্থা বাকি সব ইসলামী ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলোতেও। শঙ্কার বিষয় হলো- সার্বিকভাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের প্রবৃদ্ধি যেখানে ১৩ দশমিক ৮৭ ভাগ, সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩৩ দশমিক ৯৫ ভাগ। এ ধারা চলতে থাকলে সামনে ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দেবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এই মুহূর্তেই নগদ টাকার সংকট এতই প্রকট যে, এখন তাদের হিসাবে আর উদ্বৃত্ত তারল্য নেই। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংকগুলোর হিসাবে ছিল মাত্র ৩১৩ কোটি টাকা। এ জন্য বিশ্লেষকরা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের সুদ হার নিয়ে সরকারের নীতিগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। ব্যাংক ঋণের সুদ হার বেড়ে গিয়ে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা। তারল্য ব্যবস্থাপনায় সরকার এখনই মনোযোগী না হলে আর্থিকখাতে লাগামহীন বিশৃঙ্খলা আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তাদের।
তারল্য সংকট আরো বাড়বে
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এডি রেশিও কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়েই তারল্য সংকটে পড়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। তাই ব্যাংকগুলো এখন আমানত সংগ্রহে হন্যে হয়ে ছুটছে। বিশেষ করে সরকারি আমানত সংগ্রহ করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তবে শিগগিরই তারল্য সংকট আরো বাড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ঋণ প্রবাহ অনেক বেশি মাত্রায় বাড়তে শুরু করেছে। গড়ে প্রতিমাসে ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু আমানত বেড়েছে মাত্র ৯ থেকে ১১ শতাংশ। আমানতের তুলনায় ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ৯ শতাংশ বেশি। এসব কারণে তারল্যে টান পড়েছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আমানত নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। আর ব্যাংকগুলোও এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়। এই জন্য সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ১০ শতাংশ সুদ চেয়েছে। ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে আমানত নেয়ার জন্য বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন, ব্র্যাক, দ্য সিটি, সাউথইস্ট, ঢাকা ব্যাংক, ফারমার্সসহ বেশ কিছু ব্যাংক দৌড়ঝাঁপ করছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঋণের তুলনায় আমানত কিছুটা কমেছে। তাই সরকারি আমানত থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ আমানত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি এডি রেশিও কমিয়ে সাধারণ ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ ও ইসলামী ধারার জন্য ৮৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা জুনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
ধার নিয়ে চলছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলো শুধু সোনালী ব্যাংক থেকেই প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা মেয়াদি আমানত ধার নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক মিলিয়ে ধার দেয়া মেয়াদি আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। আমানতের সুদ হার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ হারও বাড়িয়েছে। অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের ঋণের সুদ হার এখন গড়ে ১৩ শতাংশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের ৭৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। বাকি ২৫ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। কিন্তু অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেসরকারি ব্যাংকে বেশি আমানত রেখেছিল। ফারমার্স ব্যাংকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমানত রেখে বিপদে পড়েছে। এতে বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানত বাড়াবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির ৭০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ সরকারি আমানতের মাত্র ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখা হচ্ছে। এই হারকে ৫০ শতাংশ করা দরকার। দেখা যাচ্ছে, উল্টো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বেসরকারি ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালে ব্যাংকগুলোয় আমানত সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ওই সময় ব্যাংকগুলো চড়া সুদে আমানত নেয়ার পাশাপাশি দেড় শতাংশ সুদে কলমানিতেও ধার করেছিল। তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির প্রভাব পড়ছে ব্যাংক খাতে। আর এসব কেলেঙ্কারির শাস্তি হয় না বলেই সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক, উদ্বেগ। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বিগত বছরে ব্যাংকে ঋণের চেয়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল কম। ফলে ব্যাংকে এখন আর অতিরিক্ত তারল্য নেই। আবার ঋণখেলাপি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ঋণ আদায় বাড়েনি। অন্য দিকে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি হওয়ায় টাকা সেখানে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে, এতে ঋণের সুদের হার বাড়বে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশেজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণপ্রবাহ কমলে বাণিজ্য প্রসার, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে বাধা তৈরি হতে পারে। আর সুদের হার বাড়লে ব্যবসার খরচও বাড়বে। এসব কিছু অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধির জন্য ভালো ফল আনবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেয়ার আবদার করেছে। এই আবদারটি করা হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে তাদের যে মূলধন ঘাটতি হয়েছে তা মেটানোর জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহত্তম ব্যাংক সোনালী ব্যাংক তাদের মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিই ‘হলমার্ক’ কেলেঙ্কারির কারণে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিও আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ‘অ্যাননটেক্স’ নামে একটি অখ্যাত গ্রুপকে নিয়মনীতি না মেনে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। দুর্নীতির কারণে ‘লালবাতি জ্বলা’ বেসিক ব্যাংকও মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে। মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের প্রয়োজন ১২ শ’ ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিবেচিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এ খাতে চেয়েছে যথাক্রমে ৭ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা ও ৮০০ কোটি টাকা। ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধনসংক্রান্ত সভায় এই অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অর্থ সরকার নগদ দিতে পারে, নতুবা গ্যারান্টি আকারেও দিতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো অন্য খাত থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণে টাকা কর্জ করবে এবং সে ক্ষেত্রে গ্যারান্টার হবে সরকার। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থনীতির রক্তক্ষরণ, অর্থমন্ত্রীকে অবসর নেয়ার আহ্বান
আর্থিক খাতে অনিয়মের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এই মুহূর্তে অবসরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি বলেন, ‘আপনি ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন আপনি রক্তক্ষরণ কনটিনিউ করবেন? আমাদের বাঁচান, দেশকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওয়েট করার দরকার কী? আপনি আজই অবসরে চলে যান।’ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে এসব কথা বলেন তিনি। শেয়ার বাজারে ধস নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরে জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। অর্থপাচার নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রথম পানামা পেপারসে নাম এলো, অর্থমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। এরপর এলো প্যারাডাইস পেপারসে অনেক ব্যবসায়ীর নাম। তাতেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। ব্যাংকিং খাতে চলছে আতঙ্ক উদ্বেগ। এই হচ্ছে মানি মার্কেটের অবস্থা।’ জাতীয় সংসদে জাপার এমপি বলেন, ‘সোনালী, জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের রিফাইনেন্সিং দরকার। ২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। কার টাকা এটা। এটা গৌরি সেনের টাকা নয়। ১৬ কোটি মানুষের টাকা। কীভাবে দিলেন? সব ব্যাংকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অর্থনীতির যক্ষ্মা হয়েছে, বাঁচাতে হবে। অর্থনীতির রক্তক্ষরণের কারণে দেশের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কর্মসংস্থান না হলে অর্থনীতি বেগবান হবে কীভাবে?’
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ প্রকাশিত)