বৃহস্পতিবার, ২১-জুন ২০১৮, ১২:৪০ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • বিজেএমসিতে আইন লঙ্ঘন করে তিন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ

বিজেএমসিতে আইন লঙ্ঘন করে তিন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১০ মার্চ, ২০১৮ ০২:৪৫ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে (বিজেএমসি) তিনজন ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রথমে তাদেরকে ‘উপদেষ্টা’ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদেরকে ‘উপদেষ্টা পরিচালক’ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই সাথে নির্বাহী ক্ষমতাও দেয়া হয় তাদের। যার আইনগত কোনো অধিকার নেই বিজেএমসির। অথচ উপদেষ্টা পদে নিয়োগ হলেও তারাই চালাচ্ছেন সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ওই তিনজন উপদেষ্টার দাপটে অনেকটা অতীষ্ঠ বিজেএমসির অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে, দীর্ঘদিন একই বিভাগে পরিচালক পদে চাকরি করেছেন তারা। সেই সুবাদে মেয়াদ শেষে পাদট দেখিয়ে উপদেষ্টা পরিচালক পদে নিয়োগের পাশাপাশি নির্বাহী ক্ষমতাও আদায় করে নিয়েছেন।
সূত্রমতে, সরকারি কর্মচারী নিয়োগের আইন লঙ্ঘন করে এক বছর আগে বিজেএমসিতে নিয়োগ দেয়া হয় ওই তিনজন উপদেষ্টা পরিচালককে। যদিও পরিচালক পদে দায়িত্ব পালনকালে তারা লোকসান থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতিরও তথ্য রয়েছে। জানা গেছে, বিজেএমসিতে এ ধরনের উপদেষ্টা পদের আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকলেও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে তারা অবৈধভাবে এ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এই তিন উপদেষ্টা পরিচালক হলেন- একে নাজমুজ্জামান (উৎপাদন ও পাট), মো. সিরাজুল ইসলাম (বিপণন) ও বাবুল চন্দ্র রায় (গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ)। চুক্তি ভিত্তিক এ নিয়োগের ক্ষমতা বিজেএমসির না থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেটিই করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ শীর্ষকাগজের কাছে রয়েছে। উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পেয়ে তারা লুটপাটে সচেষ্ট রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সূত্র বলছে, তিন উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানিতে পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে লোকসান ও অর্থ-সঙ্কটের হাত থেকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। এতে স্থবির হয়ে পড়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কার্যক্রম। লোকসানে ধুঁকতে থাকে সরকারি পাটকলগুলো। এ কারণে মিলের শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানেও হিমশিম খেতে হয়েছে সংস্থাটিকে। প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরও বিজেএমসিতে নতুন করে আইন লঙ্ঘন করে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গিয়েও চেয়ার আঁকড়ে ছিলেন তারা। চুক্তি ভিত্তিক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পেতে এ সময় তাদের দৌড়ঝাপ চলতে থাকে। এ নিয়ে ফাইল চালাচালিতে কিছুটা সময় গড়ায়। কিন্তু পিআরএলে থাকা অবস্থায়ও ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদিন অফিসে আসতে থাকেন তারা। ভোগ করেন সব রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি চলে নতুন করে নিয়োগ চূড়ান্ত করার তৎপরতা। কিছুটা সময় ক্ষেপণ হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হন। যদিও বিজেএমসির অর্গানোগ্রামে উপদেষ্টা পদ নেই। ইতিপূর্বে এমন নিয়োগের রেকর্ডও নেই।
বিজেএমসি সূত্র বলছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের সর্ববৃহৎ পাটপণ্য উৎপাদক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের কাঠামো অনুযায়ী যুগ্ম সচিব পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তা পরিচালক হিসেবে থাকবেন। আর অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলছে। সংস্থাটির তিন পরিচালক পিআরএলে যাওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও চুক্তি ভিত্তিক এ নিয়োগে নির্বাহী ক্ষমতার কথা উল্লেখ না থাকলেও পরে তাদেরকে সেই ক্ষমতা দিয়ে উপদেষ্টা পরিচালক করা হয়েছে। তিনজনের মধ্যে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিচালক (উৎপাদন ও পাট) পদ থেকে পিআরএলে যান একে নাজমুজ্জামান। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর পরিচালক (বিপণন) পদ থেকে পিআরএলে যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালক (গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ) পদ থেকে পিআরএলে যান গত বছরের ৯ জানুয়ারি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পিআরএলে যাওয়ার পর তাদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে পাটকল করপোরেশন নিয়োগ চূড়ান্ত করে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু পিআরএলে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগ পাওয়ার মাঝের সময়ও এই তিন কর্মকর্তা অফিসে নিজেদের কক্ষের দখল বজায় রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, পিআরএলে গেলেও নিয়মিত সংস্থার গাড়ি, টেলিফোন, মোবাইল ব্যবহারসহ সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন তারা। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক এবং সরকারি কর্মচারী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু অবৈধ এ সব সুযোগ ভোগ করে তারা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করার তদবির চালাতে থাকেন। শুরুতে বিজেএমসির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই তিন কর্মকর্তা যাতে অতি সহজেই নিয়োগ পেতে পারেন সেরকম করেই ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিজেএমসিতে বিপণন, গবেষণা ও পাট উৎপাদন বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে। প্রার্থীকে অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বা সমপদমর্যাদার বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা হতে হবে।’ ২২ ফেব্রুয়ারি, এর ২০১৭ মধ্যে বিজেএমসি চেয়ারম্যানের দফতরে আবেদনপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিজেএমসি চেয়ারম্যানের দফতরে সাক্ষাৎকারের জন্য আসতে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। একই দিনে অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি করপোরেশনের সচিব মুহাম্মদ সালেহউদ্দীনের স্বাক্ষরে তিনজন উপদেষ্টার পৃথক নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। আবার একই দিনে তাদের যোগদান দেখিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
মুহাম্মদ সালেহউদ্দীন স্বাক্ষরিত একে নাজমুজ্জামানের নামে ইস্যু করা  নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের ‘উপদেষ্টা (উৎপাদন ও পাট)’ হিসেবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে একে নাজমুজ্জামানকে ৮০ হাজার টাকা সম্মানীতে নিয়োগ করা হলো। এতে আরো বলা হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ২৪.০০.০০০০.১১১.১১.০০১.১৭.১২৭, তারিখ ৫/০২/২০১৭ এর প্রেক্ষিতে এবং বিজেএমসি পরিচালনা পর্ষদের ২৩/২/২০১৭ তারিখের ৩৮৬/১৬-১৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিজেএমসির প্রয়োজনে পিআরএল ভোগরত অবস্থায় তাকে নিয়োগ দেয়া হলো। এতে শর্ত দেয়া হয়, ক. এ আদেশ প্রস্তাবিত কর্মকর্তার সম্মাতিক্রমে যোগদানের তারিখ হতে কার্যকর হবে। খ. বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের তহবিলে জমাকৃত অর্থ থেকে এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে। গ. উপদেষ্টা হিসেবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কার্যাদি সম্পন্ন করবেন। ঘ. উপদেষ্টা হিসেবে তিনি কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক তার বিবেচনায় যথোপযুক্ত উপদেশ প্রদান করবেন। ঙ. সরকারি বিধি ও বিজেএমসির বিধিবিধান অনুসারে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। চ. এক মাসের আগাম নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে এ নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা উভয়পক্ষ সংরক্ষণ করেন। ছ. দাপ্তরিক কাজের জন্য বিজেএমসি হতে যানবাহন ও মোবাইল ফোন সুবিধা প্রদান করা হবে। জ. দাপ্তরিক প্রয়োজনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন। ঝ. এ চাকরিতে যোগদানের জন্য কোনো প্রকার ভ্রমণ ভাতা/দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে না। ঞ. প্রয়োজনবোধে উপদেষ্টা নিয়োগের উপর্যুক্ত শর্তাবলী পরিবর্তন/সংযোজন/বিয়োজন করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন। ট. উল্লিখিত শর্তাবলী মোতাবেক ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিজেএমসির সাথে তাকে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগপত্র জারি করা হলো। যার স্বারক নং ২৪.০৪.০০০০.২০৫.১০.০৪৮(৩).১৭-১০৬।
একই শর্তাবলীর ভিত্তিতে একই দিনে মো. সিরাজুল ইসলামকে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের ‘উপদেষ্টা (বিপণন)’, ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সর্বসাকূল্য মাসিক ৮০ হাজার টাকা সম্মানীতে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তার নিয়োগপত্রেও স্বাক্ষর করেন বিজেএমসির সচিব মুহাম্মাদ সালেহউদ্দীন। এ নিয়োগের ব্যাপারেও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ২৪.০০.০০০০.১১১.১১.০০১.১৭.১২৭, তারিখ ৫/০২/২০১৭ এর প্রেক্ষিতে এবং বিজেএমসি পরিচালনা পর্ষদের ২৩/২/২০১৭ তারিখের ৩৮৬/১৬-১৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিজেএমসির প্রয়োজনে পিআরএল ভোগরত অবস্থায় তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিরাজুল ইসলামের নিয়োগপত্রের স্মারক নং ২৪.০৪.০০০০.২০৫.১০.০৪৮(৩).১৭-১০৭। এছাড়া, একই সূত্রের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাবুল চন্দ্র রায়কে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের ‘উপদেষ্টা (গবেষণা)’ নিয়োগ করা হয়। তার সম্মানী ও নিয়োগের শর্তও অন্য দু’জন উপদেষ্টার মতোই। অর্থাৎ তিনজনের নিয়োগের শর্ত ও সম্মানীসহ সব সুযোগ সুবিধা একই। শুধু তিনজনকে ভিন্ন তিনটি পদে উপদেষ্টা দেখানো হয়েছে। এদিকে একই দিনে সাক্ষাৎকারগ্রহণ ও নিয়োগপত্র ইস্যুর পাশাপাশি তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। যার স্মারক নং ২৪.০৪.০০০০.২০৪.০১.১০১.১৬./১৬০। বিজেএমসি সচিব স্বাক্ষরিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিজেএমসিতে উপদেষ্টা (উৎপাদন ও পাট/বিপণন/গবেষণা) হিসেবে যথাক্রমে পিআরএল ভোগরত একে নাজমুজ্জামান, মো. সিরাজুল ইসলাম ও বাবুল চন্দ্র রায় ২৩/০২/২০১৭ তারিখে যোগদান করেছেন। এমতাবস্থায় নি¤œবর্ণিত উপদেষ্টাগণকে নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্তে দায়িত্ব প্রদান করা হলোঃ একে নাজমুজ্জামান, উপদেষ্টা (উৎপাদন ও পাট)। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব উৎপাদন ও পাট বিভাগ। উপদেষ্টা (বিপণন) সিরাজুল ইসলামকে বিপণন বিভাগে এবং উপদেষ্টা (গবেষণা) বাবুল চন্দ্রকে গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, ‘পরিচালক পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টাগণ অস্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কার্যাবলী সম্পাদন করবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।’ অর্থাৎ তাদেরকে শুধু উপদেষ্টা নয়, বরং প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যে কারণে তারা নির্বাহী ক্ষমতা ভোগেরও সুযোগ পেয়েছেন। যদিও নিয়োগপত্রে তাদেরকে শুধু উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিচালকের কথা বলা হয়েছে। সেই সুবাধে নির্বাহী ক্ষমতাও ভোগ করছেন তারা। যদিও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিই অবৈধ ও বিজেএমসি আইনের লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের কর্মচারী প্রবিধানমালা, ১৯৯০ এর ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘অবসর গ্রহণ এবং উহার পর পুনঃনিয়োগের ব্যাপারে কোন কর্মচারী  ঢ়ঁনষরপ ংবৎাধহঃং ৎবঃরৎবসবহঃ ধপঃ ১৯৭৪ এর বিধানাবলী দ্বারা পরিচালিত হইবেন।’ ওই আইনের ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত কোন গণকর্মচারী কোনভাবেই প্রজাতন্ত্রের অথবা কর্পোরেশনের, জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানের বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাকরিতে কোন প্রকারেই পুনরায় নিয়োজিত হইতে পারিবেন না।’ তবে ওই আইনের ৩ উপধারা অনুসারে ‘অবসর গ্রহণের পর কোন গণ-কর্মচারীকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন।’ গণ কর্মচারী (অবসর) বিধিমালা ১৯৭৫ এর ৮(১) এ বলা হয়েছে যে, ‘গণ কর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪ এর ৫ ধারায় ৩ উপধারার অধীনে অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগের প্রতিটি প্রস্তাব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া এবং কার্যকর করিতে হইবে।’ এ ক্ষেত্রে ৮(২) এ আরো বলা হয়েছে যে, ‘রাষ্ট্রপতি এই উদ্দেশ্যে সরকারি কোন আদেশ প্রদান না করিলে সেই নিয়োগের শর্তাদি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আইন বিচার ও সংসদ বিয়ক মন্ত্রণালয়ের সহিত পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করিত হইবে।’
কিন্তু বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) এই তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রে এ আইনের কোনো প্রতিপালন হয়নি। বরং সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এটা বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। তিন পরিচালক পিআরএলে গেলেও উপদেষ্টা পদে নিয়োগের আগ পর্যন্ত তারা প্রতি কর্মদিবসেই অফিস করেছেন। তাদেরকে রেখে দেয়ার জন্যই পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন বিজেএমসি চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুল হাসান। বিজেএমসির অর্গানোগ্রামে উপদেষ্টা নামে তো কোনো পদ নেই তাহলে কীভাবে তাদের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ-জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অর্গানোগ্রামে এই পদের উল্লেখ নেই তা ঠিক। যেহেতু তারা দীর্ঘদিন বিজেএমসিতে কর্মরত ছিলেন, তারা অভিজ্ঞ। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে তাদের উপদেষ্টা পদে রেখে দেয়া হয়েছে।’ তবে বিজেএমসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা বিজেএমসি লুটে খাওয়ার জন্যই পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে উপদেষ্টা হিসেবে থেকে গেছেন। তাদের কারণে বিজেএমসিতে চরম সঙ্কট দেখা দেবে।
(সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ প্রকাশতি)