শনিবার, ২৩-জুন ২০১৮, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • নিবন্ধন পরিদফতরের প্রতিবাদের নামে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

নিবন্ধন পরিদফতরের প্রতিবাদের নামে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১২ মার্চ, ২০১৮ ০১:৫১ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্য: গত ৮ জানুয়ারি সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের ৩৬তম সংখ্যায় ‘আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন পরিদফতরে নজিরবিহীন বেআইনী নিয়োগ’ শিরোনামে যে বিশেষ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে নিবন্ধন পরিদফতর (বর্তমানে অধিদফতর) থেকে। কিন্তু প্রতিবাদটি পাঠানো হয় নিবন্ধন পরিদফতরের ঢাকা বিভাগ থেকে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা বিভাগ থেকে এ প্রতিবাদটি আসার কথা নয়। তাছাড়া দেখা যাচ্ছে, এই প্রতিবাদে মূল বিষয়ের কথা উল্লেখ না করে তার পরিবর্তে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো সংস্থাটির অপকর্ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। তাও এর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ওপর।
ঢাকা বিভাগীয় পরিদর্শক শ. ম সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, “রেজিস্ট্রেশন আইনের ৬৯(১) ধারা, Rules of Business ১৯৯৬ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা-২০১৪ এর বিধানমতে নিবন্ধন অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সকল জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর উপর অর্পিত। ১৯৮৫ সনে এনাম কমিটি কর্তৃক ‘ Revised Charter of Duties - এ নিরূপ প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, ÔTo exercise superintendence and control over the registration Department in the whole of Bangladesh and exercise all powers and functions of the Head of the Department with power to frame rules from time to time consistent with the registration Act necessitating frequent tours throughout the country for effective Superintendence and control of the Department
প্রতিবাদপত্রে আরো বলা হয়, “নিবন্ধন অধিদপ্তর ও নিবন্ধন অধিদপ্তরাধীন জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসমূহে শূন্য অফিস সহকারী/ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর/ অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদ পূরণের নিমিত্তে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এবং শূন্য পদসমূহের বিপরীতে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। অতঃপর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন প্রকার বিধিবিধান লঙ্ঘন অথবা কোন অসৎ উপায় অবলম্বন করার কোন সুযোগ নেই।”
প্রতিবাদপত্রে আরো দাবি করা হয়, “পদাধিকার বলে নিবন্ধন অধিদপ্তর বা এর অধীনস্থ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, বরখাস্ত প্রভৃতি বিষয়ে ক্ষমতা নিয়োগকারী হিসেবে বিভাগীয় প্রধান তথা মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন সংরক্ষণ করেন। সেহেতু মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগকে বেআইনী নিয়োগ হিসেবে অভিহিত করা যায় না। প্রকাশিত সংবাদে স্বার্থান্বেষী  গোষ্ঠী মহলের প্ররোচনায় অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে হেয় ও অসম্মানীত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে বিধায় এ সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানানো যাচ্ছে।”
প্রতিবেদকের বক্তব্য
শীর্ষকাগজে প্রকাশিত ‘আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন পরিদফতরে নজিরবিহীন বেআইনী নিয়োগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে যে সকল তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল সে সম্পর্কে এই প্রতিবাদপত্রে কিছুই বলা হয়নি। বরং দেখা যাচ্ছে, প্রতিবাদপত্রে ‘ধান বানতে গিয়ে শিবের গীত’ গাওয়া হয়েছে।
শীর্ষকাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংক্রান্ত আইন-কানুন, বিধি-বিধানের মূল ভিত্তি হলো এস্টাব্লিসমেন্ট ম্যানুয়াল। সেই এস্টাব্লিসমেন্ট ম্যানুয়ালেরই কোটা সংক্রান্ত বিধি-বিধানে জেলা পযায়ে কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে এই মর্মে বাধ্যবাধকতা দেওয়া আছে যে, প্রত্যেক সরকারি দফতর, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জেলা পর্যায়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর নিয়োগগুলো হবে ওই জেলার নাগরিকদের মধ্য থেকে। বিজ্ঞপ্তি জারি থেকে শুরু করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে জেলা পর্যায়ের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে। সাধারণত, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নিয়োগ কমিটি গঠিত হয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট দফতরের জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে। প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বিভাগ থেকে শুরু করে সরকারের প্রতিটি দফতরে এই প্রক্রিয়ায়ই জেলা পর্যায়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ হয়ে আসছে। নিবন্ধন পরিদফতরেও এই নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে আসছিল ইতিপূর্বে। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে নিবন্ধন পরিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা পর্যায়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দেদারছে। ইতিমধ্যে অন্তত ৬০ জন কর্মচারী এভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিবন্ধন পরিদফতরের আইজিআর (মহাপরিদর্শক নিবন্ধন) খান মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে এই নিয়োগগুলো চলছে। তিনিই এসব নিয়োগ কমিটির প্রধান। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে তার নামেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে। তিনিই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা পর্যায়ে পদায়ন করছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।”
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, “শুধু এস্টাব্লিসমেন্ট ম্যানুয়ালই নয়, নিবন্ধন পরিদফতরের কর্মকা- পরিচালনার জন্য নিবন্ধন ম্যানুয়াল, ২০১৪ নামে যে বিধান কার্যকর আছে সেটিও চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বর্তমানে। নিবন্ধন পরিদফতরে দীর্ঘকাল থেকেই প্রচলিত আছে এবং আইন দ্বারাও বাধ্য করা হয়েছে যে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অফিস সহকারী ও সমমানের পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে এক্সট্রা মোহরার নামে পরিচিত এক ধরনের কর্মচারী রয়েছেন, যাদের পদ স্থায়ী নয়। এরা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন। এদের মধ্য থেকেই মোহারার’র শূন্য পদে নিয়োগ করার বিধান রয়েছে। অফিস সহকারীর শূন্য পদগুলো পূরণ হবে মোহরার থেকে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে। অফিস সহকারীদের মধ্য থেকে প্রধান সহকারীর শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়। এক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের এ পদগুলোতে বাইরে থেকে কাউকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে সরাসরি নিয়োগের কোনও সুযোগই আদৌ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের এ পদগুলো পূরণের দায়িত্ব অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে সংশ্লিষ্ট জেলা নিবন্ধকের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটি। কিন্তু, বর্তমানে এই বিধি-বিধানও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। পদোন্নতির মাধ্যমে মোহরার ও অফিস সহকারী পদে এক্সট্রা মোহরারদের মধ্য থেকে নিয়োগ না করে বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাও সরাসরি নিবন্ধন পরিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এমন গুরুতর অনিয়ম চলছে। জানা গেছে, এই অনিয়ম-অপকর্ম শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে অর্থাৎ বর্তমান আইন মন্ত্রীর আমলে। বর্তমানে এসব অনিয়ম চূড়ান্ত রূপলাভ করেছে। এ নিয়ে নিবন্ধন পরিদফতরের মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নিবন্ধন কার্যালয়গুলোতে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা মিছিল-সমাবেশ ও ধর্মঘটও করেছে বিভিন্ন স্থানে। তারপরও এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি।”
 দেখা যাচ্ছে যে, শীর্ষ কাগজের প্রতিবেদনটিতে নিবন্ধন পরিদফতরের (বর্তমানে অধিদফতর) অনিয়মের যেসব গুরুতর তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল তারমধ্যে রয়েছে- (১) নিবন্ধন পরিদফতরে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে ব্যাপকভাবে। (২) নিয়োগের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। (৩) নিবন্ধন পরিদফতরের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নিয়োগ বিধি এবং রীতিনীতি অনুসরণ করার কথা সেটিও চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। (৫) নিয়োগ বিধি অনুযায়ী এবং অতীতের রীতিনীতি অনুযায়ী এক্সট্রা মোহরার থেকে মোহরার পদে নিয়োগ এবং পদোন্নতির মাধ্যমে অফিস সহকারীসহ উচ্চ পদগুলোতে কর্মচারী নিয়োগ না করে বাইরে থেকে যথেচ্ছাভাবে কর্মচারী নিয়োগ করা হচ্ছে বর্তমানে (৬) জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের বিধান অনুসরণ না করে সরাসরি প্রধান কার্যালয় থেকে কর্মচারী নিয়োগ হচ্ছে (৭) এক জেলায় অন্য জেলার লোকদের মধ্য থেকে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ হচ্ছে। (৮) এসব অনিয়মের সঙ্গে নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক খান মো. আবদুল মান্নান সরাসরি জড়িত।
কিন্তু, শীর্ষকাগজের প্রতিবেদনের এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে নিবন্ধন পরিদফতরের প্রতিবাদপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোনও পাল্টা যুক্তি, তথ্য বা বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি। প্রতিবাদপত্রে শুধু গৎবাঁধাভাবে বলা হয়েছে, “রেজিস্ট্রেশন আইনের ৬৯(১) ধারা, Rules of Business, ১৯৯৬ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা-২০১৪ এর বিধানমতে নিবন্ধন অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সকল জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর উপর অর্পিত।”
এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, ‘তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ’ অর্থ কী এই দাঁড়ায় যে, মহাপরিদর্শক নিজের ইচ্ছেমত সব কিছুই করতে পারবেন? তিনি কী কোটা আইনও লঙ্ঘন করতে পারবেন, যা অনুসরণ করা সাংবিধানিকভাবেই বাধ্যতামূলক? ‘তত্ত্বাবধান, পরিচালনা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ’ শব্দগুলোর মাধ্যমে  যদি মহাপরিদর্শক নিজের খেয়ালখুশিমতো সবকিছু করার অসীম ক্ষমতা পেয়ে থাকেন তাহলে কী আর কোনও বিধি-বিধানের প্রয়োজন আছে? অন্য সব বিধি-বিধানকে বাতিল ঘোষণা করলেই তো চলবে, তাই নয় কী?
প্রতিবাদপত্রে কর্মচারী নিয়োগের আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘনে মহাপরিদর্শকের ক্ষমতা প্রাপ্তির বিষয়ে এনাম কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, এনাম কমিটির সুপারিশ কী কোনও আইন বা বিধি-বিধান? এই সুপারিশের কোনও আইনগত ভিত্তি আছে কী?
প্রতিবাদপত্রে দাবি করা হয়, “পদাধিকার বলে নিবন্ধন অধিদপ্তর বা এর অধীনস্থ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, বরখাস্ত প্রভৃতি বিষয়ে ক্ষমতা নিয়োগকারী হিসেবে বিভাগীয় প্রধান তথা মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন সংরক্ষণ করেন। সেহেতু মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগকে বেআইনী নিয়োগ হিসেবে অভিহিত করা যায় না।”
এক্ষেত্রে প্রতিবেদকের প্রশ্ন হলো, পদাধিকার অর্থ কী আইন, বিধি-বিধান? মহাপরিদর্শককে কী অন্য সকল আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
বস্তুত দেখা যাচ্ছে, নিবন্ধন পরিদফতরের অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে শীর্ষ কাগজের প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যগুলো যে পুরোপুরি সঠিক তা সংস্থাটির প্রতিবাদপত্রের বিষয়বস্তুতেই প্রমাণ হলো। গৎবাঁধা প্রতিবাদপত্রের মাধ্যমে কর্মকর্তারা তাদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করলেও তা আদৌ সম্ভব হয়নি।  
দুর্নীতির দায় আইন মন্ত্রণালয়ের উপর চাপালো
“নিবন্ধন অধিদপ্তর ও নিবন্ধন অধিদপ্তরাধীন জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসমূহে শূন্য অফিস সহকারী/ অফিস সহকারী কাম কম্পিউচার অপারেটর/ অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদ পূরণের নিমিত্তে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এবং শূন্য পদসমূহের বিপরীতে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়।”
নিবন্ধন পরিদফতরের প্রতিবাদপত্রের এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলতঃ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় আইন মন্ত্রণালয়ের উপরই চাপানো হয়েছে।
প্রতিবাদকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন
যিনি এই প্রতিবাদপত্রটি পাঠিয়েছেন, ঢাকা বিভাগীয় পরিদর্শক শ. ম সাইদুর রহমান মূলত এই প্রতিবাদপত্রের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন। তিনি কেন ‘গায়ে পড়ে’ এই প্রতিবাদপত্রটি পাঠালেন তাও এক্ষেত্রে বোধগম্য নয়। শীর্ষকাগজের প্রতিবেদনের কোথাও অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় পরিদর্শক বা তার অফিসের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি তিনি প্রতিবাদপত্র প্রেরণের জন্য নিবন্ধন পরিদফতরের প্রধান কার্যালয় বা মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেও নিজেকে দাবি করেননি। মনে করা হচ্ছে, নিবন্ধন পরিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ চক্রটি এক্ষেত্রে তাদের দুর্নীতি ঢাকার কাজে শ. ম সাইদুর রহমাননকে ব্যবহার করেছে।
(সাপ্তাহকি শীর্ষকাগজে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ প্রকাশতি)