সোমবার, ২০-মে ২০১৯, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • জনসংযোগ কর্মকর্তা পদায়ন নিয়ে তথ্য ক্যাডারে ক্ষোভ-অসন্তোষ চরমে

জনসংযোগ কর্মকর্তা পদায়ন নিয়ে তথ্য ক্যাডারে ক্ষোভ-অসন্তোষ চরমে

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১৪ মে, ২০১৯ ০৮:২২ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে সচিবালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিসিএস তথ্য (সাধারণ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের এই পদে পদায়ন করে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকা-ের প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই পদগুলো ওই ক্যাডার কর্মকর্তাদের জব ন্যাচার বা লাইনপোস্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। 
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জনসংযোগ কর্মকর্তার পদে বেতার ক্যাডার থেকে পদায়ন শুরু হয় এবং এর প্রবণতা হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়ে যাওয়ায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিসিএস তথ্য (সাধারণ) ক্যাডারের পক্ষ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে- এটি তাদেরই পদ। এখানে বেতার ক্যাডার থেকে পদায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। যাদের পোস্টিং দেয়া হয়েছে তাদের স্বপদে ফেরত নিতে হবে। এভাবে দু’দফা চিঠি দিয়ে বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জমা দেয়া লিখিত এক আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে এ-ও বলা হয়, এভাবে জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে বেতার ক্যাডার থেকে পদায়ন অব্যাহত থাকলে সরকারের প্রচার কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বেতার ক্যাডার থেকে অযৌক্তিক এই পদায়নে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করছে বলেও  চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 
২০১৮ সালের ২৪ জুন বিসিএস ইফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তথ্য সচিবকে দেয়া চিঠিতে বিসিএস তথ্য সাধারণ ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থায় জনসংযোগ কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের পাশাপাশি বিসিএস (তথ্য) বেতার উইংয়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি জানতে পারলাম যে, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেসউইংয়েও বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের পাশাপাশি বিসিএস (তথ্য) বেতার উইংয়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানিয়ে বিসিএস বেতার সাধারণ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি মাননীয় তথ্য মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে।’ বেতার কর্মকর্তাদের এ আবেদন ‘অযৌক্তিক এবং সার্ভিসের কার্যবিধিমালা, অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যাবলী ও প্রচলিত রীতির পরিপন্থী’ দাবি করে চিঠিতে বিসিএস তথ্য সাধারণ ক্যাডারের কর্মকর্তারা বেশ কিছু প্রশ্ন ও যুক্তি - প্রমাণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো: 
বিসিএস (তথ্য) সাধারণ, বিসিএস (তথ্য) বেতার উইং এবং বিসিএস (তথ্য) প্রকৌশল উইং একক ক্যাডার কি না? 
(ক) বিসিএস তথ্য বেতার সাধারণ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ কে ক্যাডার সার্ভিসের বিধিবিধান হিসেবে তুলে ধরে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের নির্ধারিত পদে বেতার উইংয়ের কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানিয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বিসিএস (তথ্য) সাধারণ, বিসিএস (তথ্য) বেতার উইং এবং বিসিএস (তথ্য) প্রকৌশল উইং একক ক্যাডার কি না? এ প্রশ্ন সমাধানের জন্য যেসব বিধিবিধানের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে তা হলো- ক. ক্যাডার কম্পোজিশন এন্ড ক্যাডার রুলস, ১৯৮০ খ. বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুল, ১৯৮১ গ. ক্যাডার তফসিল ঘ. তিনটি গ্রুপের কার্যবন্টন তালিকা এবং ঙ. ক্যাডার স্ট্রেংথ। এসব বিধিবিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ক্যাডার কম্পোজিশন রুলস, ১৯৮০ তে সাধারণ, বেতার উইং ও প্রকৌশল মিলে বিসিএস (তথ্য) একটি ক্যাডার হিসেবে গঠন করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিধিবিধান প্রণয়নকালে বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ (আগস্ট ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত হালনাগাদকৃত) তে বিসিএস তথ্য ক্যাডারকে তিনটি পৃথক গ্রুপে বিভক্ত করে বিসিএস (তথ্য) ক্যাডার পুনর্গঠন করা হয়। গ্রুপ তিনটি হলো-  ক. সাধারণ, খ. বেতার উইং এবং গ. বেতার প্রকৌশল। এ রুলসের আওতায় তিনটি গ্রুপের পদসোপান, পদোন্নতির ধাপ ও পদোন্নতির শর্তাবলী পৃথকভাবে প্রণয়ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের তিনটি গ্রুপের তফসিল, কার্যবন্টন তালিকা ও ক্যাডার স্ট্রেন্থও পৃথকভাবে সাজানো হয়েছে। এ সকল বিধিবিধান থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের সাধারণ, বেতার উইং ও বেতার প্রকৌশল একই ছাতার নিচে তিনটি পৃথক ক্যাডার।
(খ) এনাম কমিটির প্রতিবেদন: ১৯৮৩ সালে প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক এনাম কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ীও বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সাধারণ, বেতার উইং ও বেতার প্রকৌশলী এ তিনটি গ্রুপ বিদ্যমান। তিনটি গ্রুপের দায়িত্ব ও কার্যাবলী, সাংগঠনিক কাঠামো, তফসিল ও পদবিন্যাস পৃথক দেখানো হয়েছে।
(গ) ১৯৮৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৯৮৮ সালে বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের একটি জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে। সেখানেও বিসিএস (তথ্য) সাধারণ, বিসিএস (তথ্য) বেতার ও বিসিএস (তথ্য) বেতার প্রকৌশলীদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা প্রকাশ করে ।
(ঘ) সংশোধিত তফসিল: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের (সাবেক সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) বিধি শাখা-৫ থেকে ৭ মে ১৯৯০ তারিখে এস.আর.ও ১৯৭৪-আইন/ ৯০/ সম (বিধি-৫) আর আর-১৫/৮৮ মারফত ইধহমষধফবংয ঈরারষ ঝবৎারপব জবপৎঁরঃসবহঃ জঁষবং, ১৯৮১ এর সংশোধন করে ঝপযবফঁষব ওও এ চধৎঃ ঢঢওও এর পরিবর্তে চধৎঃ ঢঢওওও প্রতিস্থাপন করে। এ সিডিউলেও বিসিএস (তথ্য) সাধারণ এবং বেতার উইংয়ের পদ পৃথকভাবে দেখানো হয়েছে । 
(ঙ) ক্যাডার স্ট্রেংথ: বিসিএস তথ্য সাধারণ ক্যাডারে প্রয়োজনের নিরিখে কিছু পদের মানোন্নয়ন, পদ সৃজন ও পদের নাম পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে তথ্য ক্যাডারের ক্যাডার স্ট্রেন্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়। পুনর্বিন্যাসকৃত ক্যাডার স্ট্রেংথেও বিসিএস (তথ্য) সাধারণ, বেতার ও বেতার প্রকৌশলী পদসমূহ পৃথকভাবে দেখানো হয়েছে।
বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ ও পদায়ন প্রক্রিয়া: বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ মোতাবেক তথ্য অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ক্যাডার পদসমূহ বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের তফসিলভুক্ত পদ। অপরদিকে বেতার উইং ও বেতার প্রকৌশলীর পদসমূহ বেতার অধিদপ্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ অনুযায়ী বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের তফসিলভুক্ত পদে বেতার উইংয়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি লাভ বা পদায়নের কোন সুযোগ নেই। একইভাবে বেতার উইং ও বেতার প্রকৌশলীদের নির্ধারিত পদের বিপরীতে সাধারণ গ্রুপের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পাওয়ার বা পদায়ন হওয়ারও সুযোগ নেই। অধিকন্তু বেতার উইং আবার অনুষ্ঠান ও বার্তা বিভাগ- এ দু’টি গ্রুপে বিভক্ত। একই অধিদপ্তরের পদ হওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠান বিভাগের নির্ধারিত পদের বিপরীতে বার্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের পদায়ন হওয়া বা পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই। একই অধিদপ্তরের পদ হওয়া সত্ত্বেও যেখানে অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাগণ বার্তা বিভাগের পদে পদায়ন বা পদোন্নতি লাভ করতে পারেন না, সেখানে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ক্যাডার বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের তফসিলভুক্ত পদে পদায়ন হওয়ার আবদার অযৌক্তিক।    
বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের কর্মক্ষেত্র: তথ্য অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যাবলী অনুসারে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকারের দপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/ বিভাগের প্রচার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ কারণে তথ্য অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে তথ্য অফিসার/ সিনিয়র তথ্য অফিসারের পদ সুনির্দিষ্ট করা আছে এবং এসকল কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্যও একজন সিনিয়র কর্মকর্তার পদ সুনির্দিষ্ট করা আছে, যা বেতারের কোন পর্যায়ে নেই।  
বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের কার্যবৈশিষ্ট্য (ঔড়ন ঘধঃঁৎব) ও কর্মঅভিজ্ঞতা অনুযায়ী তফসিলে বর্ণিত পদের বাইরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকারের কার্যালয়, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয়, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর/ সংস্থা এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়ে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকেই এ রীতি প্রচলিত রয়েছে এবং তা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।  
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪ ও বিপিএসসি’র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:  বিসিএস তথ্য বেতার সাধারণ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ কে ক্যাডার সার্ভিসের বিধিবিধান হিসেবে তুলে ধরে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ ক্যাডারের নির্ধারিত পদে বেতার উইংয়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ নয়। এটি রিক্রুটমেন্ট রুলসের একটি অংশ, যে অংশ শুধুই প্রবেশপদে সরাসরি নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট। ক্যাডারের অন্যান্য পদে নিয়োগের সাথে এ বিধিমালার কোনই সংশ্লিষ্টতা নেই। উল্লেখ্য, বিসিএস (তথ্য) বেতার উইং এক সময়ে প্রফেশনাল বা পেশাগত ক্যাডার ছিল। একইভাবে বিসিএস ইকনমিক ক্যাডারও এক সময়ে প্রফেশনাল ক্যাডার ছিল। এইসব ক্যাডার সাধারণ ক্যাডার হিসেবে পরিবর্তিত হওয়ায় ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ প্রণয়ন করতে হয়েছে।  সাধারণ ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থ এ নয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত হলে সাধারণ ক্যাডারসমূহের যেকোন ক্যাডারের পদে পদায়ন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিসিএস (তথ্য) বেতার উইংয়ে নিয়োগ হয়ে একই অধিদপ্তরের অনুষ্ঠান ও বার্তা বিভাগের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পদায়ন হয় না, সেখানে বিসিএস (তথ্য) সাধারণ গ্রুপের নির্ধারিত পদে পদায়ন হওয়ার দাবি অযৌক্তিক।
এ প্রসঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রকৃত তথ্য হল- মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে জনসংযোগ কর্মকর্তার কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। তবে শুরু থেকেই মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর দফতরে একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ জন্য তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের সেখানে সংযুক্তি দেয়া হয়। তারা বেতন-ভাতা তথ্য অধিদফতর থেকে পেয়ে থাকেন।
তবে তিনি মনে করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোতে জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাহলে সংযুক্তি প্রদানের পরিবর্তে পদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সরাসরি পোস্টিং দেয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে মন্ত্রণালয় সংযুক্তি দিয়ে আসছে।
ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফায়জুল হক বলেন, জব ন্যাচারসহ সবদিক বিবেচনায় আলোচ্যপদসমূহ বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ক্যাডারের পদ। তিনি বলেন, জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ যদি বেতার ক্যাডারের পদ হবে তাহলে এত বছর ধরে তারা কেন এ পদে পদায়ন দাবি করল না। ফলে কোনো খোঁড়া যুক্তি দিয়ে লাভ হবে না। আইন ও বিধিগতভাবে এখানে অন্য কোনো ক্যাডারের পদায়ন বা সংযুক্তি দেয়ার সুযোগ নেই।
বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি যুক্তির মধ্যে বলা হয়েছে, জনসংযোগ কার্যক্রমের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা পদায়ন/সংযুক্ত করা হচ্ছে। পদগুলো তাদের ক্যাডারের তফসিলভুক্ত পদ। এ ছাড়া তথ্য অধিদফতরের সাংগঠনিক কাঠামোতে মিনিস্টারিয়েল পাবলিসিট নামে একটি শাখা রয়েছে, যা তথ্য মন্ত্রণালয়াধীন অন্য কোনো অধিদফতর বা সংস্থায় নেই। তাই জনসংযোগ কাজে শুধুই তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা পদায়ন করতে হবে। এ ছাড়া ক্যাডারের কাজের বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র অনুযায়ী অন্য কোনো ক্যাডার কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব পালন করার কথা নয়।
এদিকে বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ক্যাডারের জন্য বেশ কিছু পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ। প্রস্তাবিত ৫৫টি নতুন পদের মধ্যে তথ্য কর্মকর্তার পদ ৩০টি এবং সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তার পদ ২৫টি। এ ছাড়া উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তার ২০টি পদ নতুন করে সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বৃহৎ মন্ত্রণালয়গুলোতে উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে। সে ক্ষেত্রে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে দু’জন থাকবেন। এ অবস্থায় তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের কয়েকজন বলেন, সময়ের প্রয়োজনে যখন বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ক্যাডারের জন্য আরও পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে তখন অন্য ক্যাডার থেকে এখানে পদায়নের কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। তাদের ক্যাডার কর্মকর্তার কোনো সংকট তো দেখা দেয়নি।
সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সচিব স্বাক্ষরিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত একটি পুস্তিকার মুখবন্ধের এক স্থানে বলা হয়, বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের তথ্য সাধারণ এবং রেডিও সাধারণ গ্রুপের কর্মকর্তাদের জন্য এই জ্যেষ্ঠতা তালিকা।
এ বিষয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২টি পৃথক গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করার প্রস্তাব করা হয়। যার নাম দেয়া হয় বিসিএস (তথ্য সাধারণ) ও বিসিএস (তথ্য রেডিও)।
এ ছাড়া বিসিএস (তথ্য রেডিও) অংশের তালিকাটিকে আবার দুটি ভাগে বিভক্ত করতে বলা হয়। যার এক ভাগে থাকবে অনুষ্ঠান সংগঠক থেকে রেডিও উইংয়ের মহাপরিচালক এবং অপর ভাগে থাকবে রেডিও প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী (রেডিও উইং) পর্যন্ত লাইনপোস্টের পদোন্নতি ক্রমের ধাপ। তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা মনে করেন, এর ফলে এ ধারাবাহিকতায় এতদিন যেভাবে চলে আসছে তার ব্যত্যয় ঘটানোর বিধিগত সুযোগ নেই। 
 (সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ মে ২০১৯ প্রকাশিত)