বৃহস্পতিবার, ২১-জুন ২০১৮, ১২:৩১ অপরাহ্ন
  • খেলা
  • »
  • যে সব রেকর্ড ভেঙেছে মুশফিকের ব্যাট

যে সব রেকর্ড ভেঙেছে মুশফিকের ব্যাট

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১১ মার্চ, ২০১৮ ০৬:৫০ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক : ২১৪ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দলকে চোখ বন্ধ করে নিয়ে যাবে নিশ্চিন্ত জয়ের প্রত্যাশার জায়গায়। কারণ, এতবড় রান তাড়া করে জয় তো খুব কদাচিৎই হয়। তাও আবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসায়! যেখানে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড মাত্র ১৭৫ রান তাড়া করার। তারওপর বাংলাদেশের তো নিজেদেরই এত রান তাড়া করে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই। সর্বোচ্চ যেটা রয়েছে, সেটা আজ থেকে ১১ বছর আগে, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, ১৬৫ রান তাড়া করে।

আবার এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই না কিছুদিন আগে মিরপুরে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান, ১৯৩ করেও হারতে হলো লঙ্কানদের কাছে! যে দলটি টানা পরাজয়ের গ্লানিতে এমনিতেই মুহ্যমান, তারা কি না ২১৫ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কারই মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে জয়লাভ করবে। এমন চিন্তা কোনো পাগলেও সম্ভবত করতে পারতো না।

কিন্তু ক্রিকেট তো গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। এই খেলায় কিভাবে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যায়, অমুক জিতবে, তমুক জিতবে! সেই গৌরবকে সঙ্গী করেই হয়তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধনুর্ভঙ্গ পণ করেছিল, নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। তামিম-লিটনরা যেভাবে শুরু করেছিলেন, সেই পথ ধরে জয়ের পথ রচনা করেছেন মুশফিকুর রহীম। ৩৫ বলে ৭২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে জয় নিয়েই তবে মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক।

এই এক ইনিংসেই পুরনো সব জরা ভেঙে নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি করেছেন মুশফিকুর রহীম। ব্যক্তিগত, দলীয় অনেক রেকর্ডেরই জন্ম দিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে বড় যে রেকর্ড তিনি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশকে, সেটা সৃষ্টি করতে পারেনি ভারত-পাকিস্তান এমনকি শ্রীলঙ্কার কেউ। উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার রেকর্ড তো এখন বাংলাদেশেরই। এর আগে উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৭ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ভারতের। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

২১৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশের এই জয় পুরো ক্রিকেট বিশ্বে চতুর্থতম। মাত্র কয়েকদিন আগেই (১৬ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়া ২৪৪ রান তাড়া করে জিতেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩২ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৩০ রান তাড়া করে ২০১৬ সালেই ইংল্যান্ড জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এটা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঘটনা। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।

মুশফিকের এই ইনিংস এবং স্ট্রাইক রেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ৫০ রান করেছেন এমন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মোহাম্মদ আশরাফুলেরই কেবল সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট ২২৫.৯২। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের সেই ম্যাচে ২৭ বলে ৬১ রান করেছিলেন আশরাফুল। এছাড়া যে সব ম্যাচে বাংলাদেশ রান তাড়া করে জিতেছে, সে সব ম্যাচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান মুশফিকের।

মুশফিক ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন। যা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৭ সালে খেলা আশরাফুলের সেই ইনিংসেই ছিল দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি।

এছাড়া এই ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মেরেছে মোট ১২ ছক্কা। এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। তবে ৮ ছক্কার মার ছিল তিন ম্যাচে। শুধু তাই নয়, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই ম্যাচের ছক্কা সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এর আগে ওয়ানডেতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল ১০টি।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের ২১৫ রান টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে কেবল অস্ট্রেলিয়া। তারা করেছিল ২৬৩ রান, পাল্লেকেলেতে ২০১৬ সালে। এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ১৭৫ রান করে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। যা প্রেমাদাসায় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড ছিল। যেটা ভেঙেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের কাছে এই হারের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ৫০তম পরাজয়ের শিকার হলো শ্রীলঙ্কা। অবশ্য তাদের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড। দু’দলই হেরেছে ৪৯টি করে ম্যাচ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এ নিয়ে তৃতীয়বার হারলো লঙ্কানরা।

শীর্ষনিউজ/এসএসআই