বৃহস্পতিবার, ২১-জুন ২০১৮, ১২:৩০ অপরাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বসবাস

অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বসবাস

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৪ মার্চ, ২০১৮ ০৫:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: সারা দুনিয়ায় অস্থিরতা চলছে। তবে পৃথিবীর শান্তিপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সমৃদ্ধ অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসম্মত আবহাওয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা-সব মিলিয়ে বসবাসের জন্য চমৎকার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তাই দেশ দুটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান অনেকে। সঠিক নিয়ম মেনে বিশ্বের যেকোনো জাতি-ধর্মের মানুষ এসব দেশে পেতে পারেন স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য না পেয়ে পা বাড়াচ্ছেন ভুল পথে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সাহায্য করছেন মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজনেস ও ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন করে অল্প দিনে সহজেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন নেই উচ্চশিক্ষার সনদেরও। তবে উচ্চশিক্ষার সনদ থাকলে মিলবে বাড়তি সুযোগ।

এ ছাড়া বিজনেস রেসিডেন্স ভিসায় মাত্র পাঁচ বছরে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন মালয়েশিয়ায়ও। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ জায়গার একটি। এখানে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো আবহাওয়া সমস্যা নেই। আর সব জাতির অধিবাসীদের এখানে সমান সম্মান জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে সপরিবারে বিজনেস ও প্রফেশনাল স্কিলড মাইগ্রেশনের সুযোগ। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পাস। আর উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা বাড়তি সুবিধা তো পাবেনই।’ এ ছাড়া আইইএলটিএস-এ ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ স্কোর ওঠাতে হবে অস্ট্রেলিয়া অথবা নিউজিল্যান্ড যেতে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইইএলটিএসের বিষয়টি শিথিল রয়েছে। ২৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের যে কেউ আবেদন জানাতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর। অস্ট্রেলিয়ায় চারশ’র বেশি পেশায় দেয়া হচ্ছে স্কিলড মাইগ্রেশন। এতে খুব শিগগির স্থায়ী রেসিডেন্স ভিসা পাওয়া সম্ভব পুরো পরিবারের। সংশ্লিষ্টরা জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস মাইগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন হবে ন্যূনতম আট লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। আর ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশনের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ডলারে ২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার নিজ কোম্পানি অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট রাখতে হবে আগ্রহীকে। বিজনেস রেসিডেন্স ভিসায় পাঁচ বছরে মালয়েশিয়ার নাগরিক মালয়েশীয় এসডিএন ও বিএইচডি কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা নিলেও নাগরিকত্ব পাওয়া বেশ কঠিন। বরং আন্তর্জাতিক কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা করলে পাঁচ বছর পরে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব (পিআর) পাওয়া যাবে সহজেই। এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো, কোনো মালয় নাগরিকের সুপারিশেরও প্রয়োজন হয় না। এমনকি অন্য কোনো সংস্থা থেকেও কোনো প্রত্যয়নপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) প্রয়োজন হয় না। ব্যবসায়ী ভিসা নিলে মালয়েশিয়া থেকে পৃথিবীর ৭৩টি দেশে মাত্র ৩ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে রি-এক্সপোর্ট বিজনেস করা সম্ভব।


বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা পেতে করণীয় কী?
আন্তর্জাতিক কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা পেতে পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত ও বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করে নিতে হবে। পাসপোর্টের ফটোকপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ব্যাংকের বিবৃতি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের চারটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর স্থানীয় কমিশনার বা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চারিত্রিক সনদের প্রয়োজন হবে। সব কাগজ ঠিক থাকলে ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ধনীদের আকৃষ্ট করতে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে
অভিবাসন দেশ হিসেবে বরাবরই পৃথিবীর অন্যতম গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। তবে সম্প্রতি দেশটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনকুবেররা। ২০১৮ সালের গ্লোবাল ওয়েল্যাল মাইগ্রেশন প্রতিবেদনে এমন তথ্যই বের হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গোটা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অভিবাসী হিসেবে সচ্ছল পরিবারের মানুষ পাড়ি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। গত বছর এমন অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার। যা আগের বছরে ছিল ৮২ হাজার। ২০১৫ সালে ছিল ৬৫ হাজার। এর মধ্যে গত বছর শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই প্রায় ১০ হাজার এমন অভিবাসী বসবাস শুরু করেছেন। যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সমতুল্য। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে এমন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার। ধনীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে তাই অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে। এমনকি গত ১০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দারা গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের চেয়েও বেশি সম্পদশালী। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের জন্য ধনী অভিবাসীদের কাছে পছন্দের তালিকায় রয়েছে- সিডনি, মেলবোর্ন, গোল্ড কোস্ট, সানশাইন কোস্ট, পার্থ ও ব্রিসবেন। এর পেছনে ব্যবসায়িক কারণটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন অভিবাসীরা। এ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা বড় অংশের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যালয় স্থানান্তর করার একটা প্রচলনও দেখা দিয়েছে।


যে কারণে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া
নিরাপত্তার দিক থেকে অভিবাসীদের সন্তুষ্টি প্রদান করতে সফল অস্ট্রেলিয়া। শিশু ও নারী নিরাপত্তা প্রদানে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ এটি। বিশাল অস্ট্রেলিয়ার কম জনসংখ্যাও অভিবাসীদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে অন্যতম একটা কারণ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কম জনসংখ্যার দেশ অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অন্যতম। অন্যদিকে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া ও পাকিস্তানের মতো বেশি জনসংখ্যার দেশগুলো কম ধনীদের দেশের তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ কম জনসংখ্যা একটি দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। সেই সাথে নাতিশীতোষ্ণ আবহওয়াও দেশটির প্রতি বিশে^র ধনীদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

শীর্ষনিউজ/এইচএস