বুধবার, ২৪-এপ্রিল ২০১৯, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • প্রবাস
  • »
  • প্রেমিকের খোঁজে জর্ডান থেকে ভারতে বাংলাদেশি তরুণী

প্রেমিকের খোঁজে জর্ডান থেকে ভারতে বাংলাদেশি তরুণী

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক : লক্ষ্মৌয়ের আমাউসি বিমানবন্দরে অঝোরে কেঁদে চলেছেন বাংলাদেশি যুবতী রেশমা (প্রকৃত নাম নয়)। বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছেন না। অবশেষে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী সিআইএসএফের কর্মকর্তারা ও কৌতুহলী জনতা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে পাশে দাঁড়ায় রেশমার। রেশমা থাকতেন জর্ডানে। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করতেন ভারতের কুশিনগরের যুবক রাজেন্দ্র গুপ্ত (পরিবর্তিত নাম)।

একই প্রতিষ্টানে চাকরি করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লাইফ পার্টনার হয়ে ওঠেন তারা। রাজেন্দ্র গুপ্ত কথা দেন রেশমাকে বিয়ে করবেন। কিন্তু মারাত্মক এক প্রতারণার কৌশল নেন রাজেন্দ্র গুপ্ত। তিনি রেশমাকে বলেন, কুশিনগরে তার পরিবার কট্টর হিন্দুত্ববাদী। তাদেরকে রাজি করাতে তাকে দেশে ফিরতে হবে। দেশে ফিরেই তিনি লাপাত্তা হয়ে যান। তার সঙ্গে মসৃণ যোগাযোগ স্থাপন করতে না পেরে রেশমা ছুটে এসেছেন ভারতে। তাদের লাভস্টোরি নতুন এক মোড় নিয়েছে সেখান থেকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রোববার রেশমা তার হারানো প্রেমিককে খুঁজে পেতে অবতরণ করেন আমাউসি বিমানবন্দরে। সেখানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি বার বার সহায়তা চান। বার বার কাঁদতে থাকেন। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা, সিআইএসএফ কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে নিজের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন। এরপর পুলিশ উপস্থিত হয় সেখানে। রেশমা প্রথমে তার প্রেমিক রাজেন্দ্র গুপ্তকে খুঁজে পেতে কলকাতা যান। সেখান থেকে বিমানে আরোহণ করেন। উদ্দেশ্য কুশিনগরে রাজেন্দ্র গুপ্তকে খুঁজে পাওয়া।

আমাউসি বিমানবন্দরে পুলিশের কাছে রেশমা বলেছেন, জর্ডানে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে গিয়ে তাদের সাক্ষাত হয়। তারপর তারা বন্ধু হয়ে ওঠেন। তাদের সেই বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হতে থাকে। তারা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করবেন। কিন্তু নভেম্বরে এসে রেশমার সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল। ওই সময়ে রাজেন্দ্র গুপ্ত ভারতে ফিরে আসেন। এ সম্পর্কে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের কাছে রেশমা বলেন, সে আমাকে বলেছিল, কট্টর হিন্দু পরিবার তাদের। কুশিনগরে অবস্থানরত সেই পরিবার যাতে আমাকে তাদের পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করে এ জন্য পরিবারের সবাইকে রাজি করাতে সে ভারতে যাচ্ছে।

রেশমা আরো বলেন, রাজেন্দ্র গুপ্ত জর্ডান ছাড়ার কয়েকদিন পরেই আমি জানতে পারি সে চাকরি ছেড়ে গেছে। এরপর সে আমার ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়। কোনো ম্যাসেজ বা ইমেইলের জবাব দেয় না।

রেশমা আরো বলেন, একদিন সে আমার ফোনকল ধরল। আমি তার আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলাম। এ সময় সে আমাকে কলকাতা আসতে বললো। প্রতিশ্রুতি দিল, সেখানে সে আমার সঙ্গে দেখা দেবে। আমার সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে কলকাতা পৌঁছালাম। কিন্তু এসেই দেখি সে এখানে নেই। এমন কি সে আমার কোনো ফোনকলও ধরছে না। এ অবস্থায় আমি কলকাতা কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চাই। তারা আমাকে পাঠিয়ে দেয় লক্ষ্ণৌতে।

আমাউসি বিমানবন্দরে শেষ পর্যন্ত রেশমার পাশে এসে দাঁড়ান এসআই জেপি সিং। তিনি বলেন, আমি জানতে পারি যে, বিমানবন্দরে একজন নারী কাঁদছেন। তিনি কাউকে খুঁজছেন। তার কাহিনী শুনে আমি সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রেশমার কাছ থেকে রাজেন্দ্র গুপ্তর ফোন নম্বর নেন জেপি সিং। তিনি ফোন করেন রাজেন্দ্রকে। কলটি ধরেন রাজেন্দ্র গুপ্তর ভাই। জেপি সিং বলেন, এ সময় আমি তাকে বলেছি, রাজেন্দ্রর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আমি কুশিনগরের নারী পুলিশদের সঙ্গে করে রেশমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাদেরকে আরো বলেছি, সত্য উদঘাটন করে সমস্যার সমাধান করতে। যদি রেশমাকে হয়রানি করা হয় আর তিনি মামলা করেন তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শীর্ষনিউজ/এমই